PNB ব্যাংকের প্রতারণা

 সাধারণ মানুষের সাথে PNB ব্যাংকের প্রতারণা

খোদ ব্যাংক কর্মচারীর প্রতারণা গ্রাহককে
    26 সে অক্টোবর, আসানসোল, কাল্লা, নিজস্ব প্রতিবেদন : আগে অনেকবার PNB ব্যাংকের(Panjab National Bank) অসংগত কার্য কলাপের খবর পাওয়া গেছে। সেরকমই আজ একটি নির্দশন পাওয়া গেল PNB ব্যাংকের। PNB ব্যাংকের নিজেস্ব কর্মচারী ব্যাংকের এক গ্রাহকের সাথে প্রতারণা করেছে। যা অবিশ্বাস্য। সচরাচর দেখা যায় না।

      মানুষ কাকে বিশ্বাস করবে। ব্যাংকে টাকা রেখেও যদি ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় তবে মানুষ যাবে কোথায়। ঘরে টাকা রাখলে চুরির তো ভয় আছেই, তারপর ঘরে টাকা রাখলে সরকার কালো টাকা বলে বাজেয়াপ্ত করে দেবে। কি করবে সাধারণ মানুষ।

      ব্যাংকের কোনো সমস্যা হলে সাধারণ মানুষ ব্যাংকেই তো যাবে। যে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকবে সেই ব্যাংকেই যাবে।তাতে যদি সেই ব্যাংকের স্টাফ বা কর্মচারী যদি ভুল কথা বলে , এক করব বলে আরেক করে দেয় তো সাধারণ মানুষ কি করবে। কাকে বিশ্বাস করবে। ব্যাংকের নিজেস্ব স্টাফ যদি এমন প্রতারণা করে তবে কোথায় যাবে সাধারণ মানুষ।

         ব্যাংকের ব্রাঞ্চের ভিতরে বসে ব্যাংকের কর্মচারী ব্যাংকের গ্রাহকদের নানা রকম ভুল ভাল বুঝিয়ে , ছল করে অন্য জায়গায় সই করিয়ে টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেয় তো কি করবে সাধারণ মানুষ। কাকে বিশ্বাস করবে। এভাবে দিনের পর দিন কতো গ্রাহক ঠকছে তার কোনো হিসাব নেই। কেউ জানেনই না যে তারা ঠকছে । বুঝতেই পারে না। যখন বুঝে তখন আর কিছুই করার থাকে না। ভয়ে কাউকে বলতেও পারে না।

      এভাবে কতো মানুষ দিনের পর দিন সর্বশান্ত হচ্ছে তার কোনো ইয়ত্তনেই। ব্যাংকের কর্মচারীরা কোনো পাত্তায় দেয় না। নিজেদের ভুল স্বীকার তো করেই না।, অবশ্য ভুল নয় ইচ্ছা কৃত কাজ। বলতে গেলে ধমকে চুপ করিয়ে দেয়। সাধারণ মানুষ ভয়ে কিছুই করতে বা বলতে পারে না।

       এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে আসানসোল শিল্প শহরের কাল্লা PNB ব্যাংকের ব্রাঞ্চে। এক গ্রাহক যার সেভিং অ্যাকাউন্ট খোলা আছে এবং কিছু টাকা ফিক্স ডিপোজিট করা ছিল। তার ফিক্স ডিপোজিট টাকা তোলার সময়/মেয়াদ হয়ে যাওয়ায় সে পুনরায় সেই টাকা ফিক্স ডিপোজিট করতে চাই। সেই মতো ব্যাঙ্কে গিয়ে বলে এই ফিক্স ডিপোজিট টাকা আমি আবার ফিক্স ডিপোজিট করতে চাই। সেই কথা শুনে PNB ব্যাংকের এক স্টাফ বলে আবার ফিক্স ডিপোজিট করতে চাইলে পুনরায় ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। গ্রাহক তা শুনে সম্মতি জানায় এবং তাদের দেওয়া ফর্মে সাইন করে দেয়। তখন ব্যাংক কর্মী বলে 15 থেকে 20 দিন পর সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন। গ্রাহক তখন বাড়ী চলে আসেন।

    15দিন পর গ্রাহক সার্টিফিকেট নিতে ব্যাঙ্কে গেলে বলে আরো কয়েক দিন সময় লাগবে। তারপর গ্রাহক 25/10/2021 তারিখে ব্যাঙ্কে গেলে বলে আপনার টাকা LIC করা হয়েছে। একথা শুনে গ্রাহকের মাথায় হাত কি করবে বুঝতে না পারে, একজনের কছে পরামর্শ নিতে ফোন করে। যাকে ফোন করে সে ব্যাঙ্কে বলতে বলে আমার টাকা LIC করবো না, ফিক্স ডিপোজিট করব । সেই কথা শুনে ব্যাংক কর্মী বলে আর কিছু করা যাবে না। এখন যান পরে আসুন বলে যেতে বলে। কোনো কোথায় শুনতে চায় না। তখন গ্রাহক তার পরিচিত কে বলে কথা শুনছে না কি করব। তার পরিচিত বলে ফোনটা নিয়ে ব্যাংক কর্মী কে দাও কথা বলব, তখনও ফোনে কথা বলতে চাইছিল না, তখন গ্রহাককে লাউডস্পিকারে  দিতে বলে। সেই সময় জোর গলায় কথা বলে যে এটা আপনার প্রতারণা করেছেন, ফিক্স ডিপোজিট বলে কেন LIC করে দিয়েছেন, তবু কোনো কথা শুনতে চাইছিল না । জোর গলায় ঝার দেওয়াতে বলে কাল আসুন ঠিক করব। সেই মতো আজ যাওয়াতে বলে একটা application করতে হবে।( নির্লজ্জের মতো বলে আপনার ভুলটা সংশোধন ঠিক করে দেব। নিজেদের ভুল, ভূল না ভুল বুঝানো , সেটা না বলে প্রতারণা বলায় ঠিক, সেটা গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দিতে চায়)

    তবু তাদের কথা মতো বাংলায় application করে দেয় গ্রাহক। ব্যাংক কর্মী application নিয়ে বলে তিন চার দিন পর টাকাটা সেভিং অ্যাকাউন্ট এ এসে যাবে। দেখা যাক তিন চার দিন পর কি হয়।

   এভাবে কতো জনকে যে প্রতারণা করে ও করেছে কে জানে। 

      



      

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ময়নাগুড়ি পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু দুই যুবকের